Monday, March 30, 2015

সমুদ্র অভিসারী =========== © সুনীতি দেবনাথ






সমুদ্র অভিসারী
===========
© সুনীতি দেবনাথ
ফেব্রুয়ারি ২৩।। ২০১৫।।
পেরুর উপকূলে ওরা উড়ত ডানা মেলে
রূপোলি ঝিলিক দেয়া বালির উপরে, আর
আটলান্টিক সমুদ্রের নীল সমারোহে
আকাশ উঁকি দিয়ে হেসে উঠত খিলখিল।
পেলিক্যান আর সিগ্যাল পাখিরা
হাজারে হাজারে যে বিপুল গরিমা নিয়ে
সারাদিন উড়ে উড়ে কর্কশ সঙ্গীতে
সমুদ্রের ঢেউয়ে দোলা খেত আর
সোনালি রূপোলি মাছের ঝাঁকে দিত হানা ঝাঁপিয়ে!
তখন সেই কর্কশ সামুদ্রিক সুরে হার মানতো
জুলিয়েটের বারান্দার শেকসপীয়রের সেই
মিস্টি মধুর সুরেলা নাইটিঙ্গেল।
নোয়ার আর্ক থেকে উড়ে চলে যাওয়া সুন্দর কবুতর
ওদের সাহসী ডানার ঝাপটে ম্লান মনে হতো।
আর সেই সব সোয়ালো পাখির
দ্বিখণ্ডিত দীর্ঘপুচ্ছ দীঘল ডানার
শোভন উড়ালও ওদের ডানার ছন্দে
হেরে যেতো, হেরে যেতো
গুস্তাভো আদোলফো বেকোরের বসন্ত বিহারী
পরিযায়ী দীঘল সোয়ালো!
কতকাল কতযুগ ওরা সমুদ্রাভিসারী
উড়েছিল নেচেছিল গেয়েছিল দুরন্ত
উন্মুক্ত জীবনের জয়গান ওরা তা ভুলেছিল,
ভুলেছিল পেরুর বাসিন্দা।
সমুদ্রের তীরে ভারে ভারে স্তুপে স্তুপে
জমেছিল বিষ্ঠার পাহাড়, রোদে পুুড়ে
কেবলই স্পর্ধায় আকাশে তুলেছিল মাথা।
পেরুকে লুণ্ঠণ করে নিয়ে এবার কুচক্রি
সাম্রাজ্যবাদীদের পাখির বিষ্ঠা এটাও চাই,
চাই এই খাঁটি নাইট্রেট
একটুও যাবে না ফেলা —শকুনির লুব্ধ দৃষ্টি
যেমন ভাগাড়ে!
কোন বিজ্ঞানী যে বলেছেন এই বিষ্ঠা নিখাদ নাইট্রেট
গম ক্ষেতে তুলবে ফলনের ভরন্ত তুফান।
ওদিকে য়ুরোপে শূকর মোরগ মাছ চায়
নোনা সমুদ্রের, মাছ দরকার!
পেরুর উপকূল লোভনীয়!
পেলিক্যান সীগ্যালের বংশ পরম্পরার খাদ্যের ভাণ্ডার।
জাহাজ জাহাজ নাইট্রেট নিয়ে গেল
মার্কিনি বণিক, হাজার হাজার জাহাজ
পাখিদের বঞ্চিত করে মুখের গ্রাস নিল কেড়ে —
য়ুরোপে ভেসে গেলো।
সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে য়ুরোপ মার্কিনি
আকাশে আকাশে শীতের ঝরাপাতার
মতন উড়তে লাগল পতপত করে টাকা
টাকা আর টাকা ধনতন্ত্রের পরম রতন!
সার গেল মাছ গেল গেল গেল সব গেল
রয়ে গেল ক্ষুধার্ত মানুষ আর
সমুদ্রাভিসারী হাজারো পেলিক্যান —
কী দুরন্ত মৃত্যুর মিছিল!
মাছুয়া নৌকো ঘিরে পেলিক্যান
উড়ে যায় খাদ্যের টানে সমুদ্র অভিসারে
গভীর থেকে গভীরে
ডানা ভারি হয়ে হায় পড়ে যায়
নিষ্ঠুর সমুদ্র লেখে মৃত্যু পরোয়ানা।
দলে দলে চলে তারা সড়ক ধরে শহরে
ফেরে না তো আর,
লিমার পথে অসংখ্য পেলিক্যান ঘুরে মরে পড়ে থাকে।
আগ্রাসী ধনতন্ত্র রুদ্র রূপে হাসে
গড়ে ওঠে সভ্যতার পতনের ইতিহাস!
পেরুর ভ্রমণকারীগণ, দেখেছো কি
মৃত নগরীর সারি? ঝুলছে এদিকে ওদিকেও
বোবা টেলিফোনের তার
প্রেত নগরীতে রাবিশের স্তুপ মৃত্যুর গহ্বর?
বুজে যাওয়া নাইট্রেট রেলপথ,
বিস্ফোরণে বিস্ফোরণে নাইট্রেট জমিনের কঙ্কাল?
সাদা পাহাড়ের
স্তুপীকৃত জঞ্জালে আচ্ছন্ন নগরী?
ভয়াল শীতের শীতল বাতাসে সেখানে
কবরস্থানে কেঁপে কেঁপে ওঠে ক্রুশগুলো!
হায়রে সভ্যতা! মৃত্যুর ওপার থেকে
চেয়ে থাকে পাখি আর মানুষের চোখ!

বৈশাখ এসেছে বৈশাখ - মোঃ খোরশেদ আলম


বৈশাখ এসেছে বৈশাখ

বৈশাখ এসেছে সবার ঘরে বৈশাখ , হ্যাঁ বৈশাখ !  
রমনার বট মূলে দেখো বসেছে মেলা,  
কিশোর কিশোরীরা ঘুরছে দেখো ঝাঁকে ঝাঁক, হ্যাঁ বৈশাখ!  

বৈশাখ এসেছে নিয়ে দেখো নতুন কথা
দোকানের দোকান্দার খুলছে বৈশাখী হাল খাতা।
দেখো মিলন মেলায় চলছে তাঁদের কেনা বেচার হাট, হ্যাঁ বৈশাখ !

বৈশাখ লেগে আছে দেখো কিশোরীর শাড়ীর আঁচলে
পা দুখানি লাল করে বলছে বৈশাখ আজ বৈশাখ ।
দেখো ঝুমঝুম শব্দ নিয়ে আসছে বৈশাখ ঐ কিশোরীর পায়ে , হ্যাঁ বৈশাখ!

বৈশাখ এসেছে বলে রমণী বদলেছে তার রূপ
স্বামীর কাছে এসে বলে লাগছে কি খুব ?
বৈশাখ এসেছে আজ বৈশাখ, হ্যাঁ বৈশাখ!  

বৈশাখে দেখো হিন্দু পরিবার
নাচে গানে ব্যকুল তারা পাবে কি আবার !
বৈশাখ এসেছে আজ বৈশাখ, হ্যাঁ বৈশাখ !  

বৈশাখ এসেছে ! এসেছে বৈশাখ !
চারদিকে ঝরে পড়ছে বাতাসে ঝরা পাতা
মুছে দিতে ক্লান্তি বেদনায় ভরা জ্বালা।
বৈশাখ এসেছে আজ বৈশাখ ! হ্যাঁ আজ বৈশাখ !

কে কোথাই আছো!
দেখে যাও ! আজ দেখে যাও !
বৈশাখ এসেছে বৈশাখ , হ্যাঁ বৈশাখ !
হা-হা-হা বৈশাখ আজ বৈশাখ ।

Sunday, March 29, 2015

সোনার তরী

 কবিতারটির মাঝে পাওয়া যায় জীবনের অনেক কিছু.....................।

সোনার তরী
 - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কুলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা
কাটিতে কাটতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা
চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়া-মসিমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাত বেলা
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলিনিরুপায়
ভাঙে দু ধারে –
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।


ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে,
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কুলেতে এসে।

যত চাও তত লও তরণী, পরে।
আর আছে? আর নাই, দিয়েছি ভরে।
এত কাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলই দিলাম তুলে
থরে বিথরে –
এখন আমারে লহো করুণা করে।
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-ছোটো সে তরী
আমারই সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণ গগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শুন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।
 

আবৃত্তি শিল্পী বদরুল আহসান খান

আবৃত্তি শিল্পী বদরুল আহসান খান কে নিয়ে আমার লেখা কবিতা আবৃত্তি করলেন তিনি নিজেই